সার্ভিস বেসড বিজনেস জন্য ফেসবুক লিডস অ্যাডই ভালো, মেসেজ অ্যাড নয়। কারণ, মেসেজ অ্যাডের জন্য আলাদা একজন লোক রাখতে হয়, যিনি সারাদিন মেসেজের রিপ্লাই দেবেন। এতে কনভার্সন কম হয়, এবং ফেসবুক বুঝতে পারে না কে কনভার্ট হয়েছে আর কে হয়নি, ফলে ফেসবুক সঠিকভাবে টার্গেট করতে পারে না।
অন্যদিকে, লিডস অ্যাডে শুধুমাত্র আগ্রহী ব্যক্তিরাই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে লিড ফর্ম পূরণ করে, তাই ফেসবুক জানে কারা প্রকৃত সম্ভাব্য কাস্টমার এবং তাই আরও নির্ভুলভাবে তাদের কাছে অ্যাড দেখাতে পারে। এছাড়া, লিডস অ্যাডের ক্ষেত্রে শুধু কল দেওয়ার জন্য একজন লোকই যথেষ্ট (যা ক্লায়েন্ট নিজেও করতে পারেন), কনভার্সন বেশি হয় এবং সময়ের সাথে লিডের মানও উন্নত হয়।
এটি আরও বিস্তারিতভাবে বুঝি চলুন—
১. মেসেজ অ্যাডে খরচ বেশি লিডস অ্যাডের তুলনায়
ধরি, Mr. A এবং Mr. B তাদের ট্রাভেল বিজনেসের জন্য ফেসবুক অ্যাড চালাবেন।
- Mr. A মেসেজ অ্যাড চালালেন, ফলে তাকে বা তার একজন কর্মচারীকে সারাদিন মেসেজের রিপ্লাই দিতে হবে। যেহেতু তিনি ব্যস্ত, তাই একজন কর্মচারী নিয়োগ দিলেন শুধুমাত্র এই কাজের জন্য। এতে তার শুধু অ্যাড খরচই নয়, বরং কর্মচারীর বেতনও যুক্ত হলো।
- Mr. B লিডস অ্যাড চালালেন, ফলে শুধুমাত্র প্রকৃত আগ্রহীরা লিড ফর্ম পূরণ করলো। দিনে হয়তো কম লিড আসবে, কিন্তু যেগুলো আসবে, সেগুলো প্রকৃত কাস্টমার। ফলে তিনি তার বিদ্যমান কর্মচারীর মাধ্যমেই সহজেই লিডগুলোর সাথে যোগাযোগ করে কনভার্ট করতে পারছেন, অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগের প্রয়োজন পড়ছে না।
ফলাফল:
মেসেজ অ্যাডে অতিরিক্ত জনবল খরচ যুক্ত হয়, যেখানে লিডস অ্যাডে অতিরিক্ত জনবল খরচ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বিদ্যমান কর্মচারীর মাধ্যমেই কল দেওয়া হয়।
২. মেসেজ অ্যাডের কনভার্সন কম লিডস অ্যাডের তুলনায়
- মেসেজ অ্যাড:
- কেউ অ্যাডে ক্লিক করলেই ক্লায়েন্টের কাছে মেসেজ চলে আসে, এবং ক্লায়েন্ট চেষ্টা করে তাকে কনভার্ট করতে।
- কিন্তু বাংলাদেশে অনেক মানুষ স্রেফ গল্প করার জন্য মেসেজ পাঠায়, যদিও তারা আদৌও সার্ভিস নিতে চায় না।
- ফলে ক্লায়েন্টকে অনেক অনাগ্রহী মানুষের সাথে সময় নষ্ট করতে হয়।
- লিডস অ্যাড:
- লিডস অ্যাডে, ব্যবহারকারীকে লিড জমা দেওয়ার আগে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
- যার সত্যিকারের আগ্রহ নেই, সে এত কষ্ট করে ফর্ম পূরণ করবে না।
- ফলে লিডস অ্যাড থেকে আসা প্রতিটি লিড বেশি সম্ভাবনাময়, এবং ক্লায়েন্ট কম সময়ে বেশি কার্যকরভাবে লিড কনভার্ট করতে পারে।
ফলাফল:
মেসেজ অ্যাডে অনাগ্রহীরা বেশি মেসেজ পাঠায়, ফলে কনভার্সন কম হয়। লিডস অ্যাডে শুধু প্রকৃত আগ্রহীরা লিড জমা দেয়, ফলে কনভার্সন রেট অনেক বেশি হয়।
৩. ফেসবুক মেসেজ অ্যাড সঠিকভাবে টার্গেট করতে পারে না, কিন্তু লিডস অ্যাড পারে
- মেসেজ অ্যাডের ক্ষেত্রে:
- ফেসবুক বুঝতে পারে না কে আসলেই কনভার্ট হয়েছে, আর কে শুধু মেসেজ করেছে।
- ফলে ফেসবুক এলোমেলোভাবে সকলকে অ্যাড দেখায়, বিশেষ করে যারা সাধারণত অ্যাড দেখে মেসেজ পাঠায়।
- এতে অ্যাডের টার্গেটিং দুর্বল হয় এবং ফলাফলও খারাপ আসে।
- লিডস অ্যাডের ক্ষেত্রে:
- যেহেতু কম সংখ্যক মানুষই ফর্ম পূরণ করে, তাই ফেসবুক বুঝতে পারে কারা সত্যিকারের আগ্রহী।
- ফেসবুক এই ডেটা ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও সঠিকভাবে টার্গেটিং করতে পারে।
- ফলে সময়ের সাথে লিডের সংখ্যা ও মান উন্নত হয়।
ফলাফল:
মেসেজ অ্যাডে অনেক মেসেজ আসলেও কনভার্সন খুব কম হয় (আমাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ৫% এরও কম)।
অন্যদিকে, লিডস অ্যাডে প্রথম থেকেই আগ্রহীরা আসে, ফলে সময়ের সাথে ফলাফল আরও ভালো হতে থাকে।
সংক্ষেপে:
- সার্ভিস বেসড বিজনেস জন্য লিডস অ্যাড অনেক ভালো বিকল্প।
- মেসেজ অ্যাড বেশি ব্যয়বহুল এবং কম কার্যকর।
- লিডস অ্যাডে শুধুমাত্র প্রকৃত আগ্রহী ব্যক্তিরাই লিড জমা দেয়।
- মেসেজ অ্যাডে অনেক অনাগ্রহী ব্যক্তি মেসেজ পাঠায়, ফলে সময় ও অর্থ নষ্ট হয়।
- ফেসবুক লিডস অ্যাড সঠিকভাবে টার্গেট করতে পারে, ফলে লিডের সংখ্যা ও মান সময়ের সাথে উন্নত হয়।
বাংলাদেশে অনেকেই মেসেজ অ্যাড ব্যবহার করেন, কিন্তু সঠিকভাবে লিডস অ্যাড চালানো হলে এটি অনেক ভালো ফলাফল দিতে পারে। যদি খেয়াল করেন, বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো কখনোই মেসেজ অ্যাড চালায় না।
আমরা সার্ভিস বেসড বিজনেস জন্য লিডস অ্যাড রান করে থাকি। এ বিষয়ে আরও জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

